একদল স্বেচ্ছাসেবী

রাজ্যে শিক্ষার নাকি বেহাল অবস্থা, গলা টিপে ধরা হচ্ছে,
নিঃশাস নিতে পারছে না সে, নাকি অযোগ্য সরবরাহ চলছে,
অক্সিজেনের ঘাটতি পড়েছে, নেই ভেন্টিলেশনের সুবিধে,
শুধু সরকারি সংস্থাগুলোই ভরসা,যেন একমাত্র এখেত্রে,

শিক্ষার সাথে চাকরি জড়িয়ে, রয়েছে নাকি অনেককাল,
সেই শিক্ষার গুণমান বিচার করতেন দীর্ঘদিন এক স্বেচ্ছাসেবীর পাল,
অনেকদিন তারা সন্তুষ্ট ছিলেন, ছিল না তাদের কোনো দাবি,
রাজার শাসনে সমস্ত প্রজা ছিল, তখন বেজায় খুশি,

চাকরিক্ষেত্রে ডিগ্রি এখানে যোগ্যতা মাপার একক,
একই ডিগ্রিতে কেউ চাকরি পেলে রোষদৃষ্টি তার ওপর,
খুঁটিয়ে নিয়ম দেখে দেখে নিজে শ্রেষ্ঠ সবাইকে বলা,
শব্দ দিয়ে পেট ভরে বোধয়, তাই লিখে যায় স্লোগান, গান আর কবিতা,

প্রচার চলছে দুর্নীতির বিরুদ্ধে, হচ্ছে অন্যায়ের প্রতিবাদ,
না খেতে পেয়ে রাজ্যের মেধা চুলোয় গেলে যাক,
অর্থ সমস্যা মেধাবীদের,স্কলারশিপের টাকাতে মেটে না,
ডিগ্রির মেয়াদ ফুরোলে তখন ভাত ডালের খবর কেউ রাখে না,

জীবিকা নির্বাহ করার তাগিদে যোগ্যতার ভিত্তিতে হলো ভর্তি,
সরাসরি সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে মিললো পছন্দের জীবিকা নির্বাহের অনুমতি,
সেদিন ছিল সবাই যোগ্য, ছিল পঠন পাঠনের অনুমতি,
বিশেষ কিছু সুবিধের ঘোষণাতেই ঘুম ভাঙলো ওই একদল স্বেচ্ছাসেবীর,

সেদিনই শিক্ষাকে ঠেলে দেওয়া হলো জ্যান্ত মৃত্যুশয্যার দিকে,
জেগে ওঠে দরদ উথলে পড়লো তাদের, সমস্ত শিক্ষা ও সমাজের দিকে,
বছর গেছে, দশক গেছে, তখন ছিল কোথায় তারা,
আজকে এসে সবার শিক্ষার ও যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে যারা,

যখন কিছু ঘোষিত ছিল না, ঘুমটা আসতো বেশ দিব্যি,
ঘোষণা ও দৃষ্টিআকর্ষণটাই বড়ো, আজ প্রমাণিত তাদের কর্মসূচিতে এমনিই,
তাদের উদ্দেশ্যেও ঘোষণা হলো, বলা হলো কত কথা,
আজ ঘুম ভাঙার কারণ নাকি তাদের ভবিষৎ কেন্দ্রীক অনুমান আর আশঙ্কা,

সুবিধে গুলোরই বেশি গুরুত্ব, তাই আতসকাঁচ ধরা হয়েছে,
এতো জাগরূকতা তাদের মাঝে যে প্রকাশ্যে, রাজদ্রোহের পথ অবলম্বিত হয়েছে,
সুবিধেগুলো ছিল না যখন তখন ব্যবস্থা ও পদ্ধতির বোঝা বয়েছে,
এখন তারাই বিষিয়ে দিচ্ছে ব্যবস্থা, ওই দেখো কারা যেন কথা বলছে,

চাকরির জন্য তারা পড়ে আর নিয়োগে চাকরি কমে,
তাই নিয়োগ করা যাবে না কারণ উত্তম প্রস্তুতি নিচ্ছে,
সবকিছু থমকে যাক, এই শুধু তুলছে দাবি,
এদের ছেড়ে ওদের দাও, কতৃপক্ষকে বাতলে দিচ্ছে, দেখো একদল স্বেচ্ছাসেবী।